সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী নয়াকুট গ্রামের গাংপাড় এলাকায় দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ‘স্বপ্নের অগ্রযাত্রা’ সেতু। রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে।
সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না বসে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে সোনাই নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ করেছেন স্থানীয় তরুণ সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা। লোহার পাইপ ও কাঠের সমন্বয়ে তৈরি এ সেতুটি শুধু দুই উপজেলার মানুষের চলাচল সহজ করবে না, বরং শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, নদী পারাপার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ছিলেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। বাজারে যাওয়া, স্কুল-কলেজে পড়াশোনা, হাসপাতালে চিকিৎসা—সবকিছুতেই ছিল বড় বাধা। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী পার হওয়া হয়ে উঠতো জীবনের ঝুঁকি। কয়েক বছর আগে নির্মিত অস্থায়ী সেতু ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জনপ্রতিনিধিদের বারবার আশ্বাস পেলেও কোনো কাজ হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে কামরুল ইসলামের উদ্যোগে গঠন করা হয় একটি কমিটি। নদীর দুই পাড়ের ১৯ জন সচেতন ব্যক্তি ১৯ লাখ টাকা সহায়তা দেন। এরপরই শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। বর্তমানে কাঠ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কামরুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করতে চেয়েছি।” তিনি সম্ভাব্য ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবেও পরিচিত।
সেতুর লিজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ নয়াকুট বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনায় অনুদান হিসেবে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান সান্টুল বলেন, “সেতু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া সহজ হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় সুবিধা হবে। স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।”
যাদের অর্থায়ন ও উদ্যোগে এই সেতু নির্মিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাজী সোনা মিয়া, হাজী মানিক মিয়া, তাজুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, সিরাজ উদ্দীন খান, কামরুজ্জামান, মনির খান, আব্দুল মছব্বির, শফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান (মাস্টার), আব্দুল মনাফ (মাস্টার), আজাদ মিয়া (মাস্টার), নজরুল ইসলাম (ব্যবসায়ী), আল আমিন খান, সফিক খান, মোঃ কামরুল ইসলাম, ডা. জহিরুল ইসলাম বিল্লাল, রিয়াজ উদ্দীন খান, আফাজ উদ্দীন, হাসান আহমদ মঙ্গল ও শিব্বির আহমদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মুরব্বি মাওলানা শিব্বির আহমদ, জিয়াদ আলী চেয়ারম্যান, তাজ উদ্দিন আহমদ (সাবেক মেম্বার), আব্দুল জব্বার খোকনসহ অনেকে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকার এগিয়ে এলে এই সেতুকে আরও টেকসই ও স্থায়ী করা সম্ভব। এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। -বিজ্ঞপ্তি






