গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের চোরাচালান সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি,ও রাজনৈতিক লেবাসধারী!

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের চোরাচালান সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি,ও রাজনৈতিক লেবাসধারী! - Surma Times | Sylhet News

Messenger creation 662E5611 0F6F 45BB A0E3 602A8B46B39B

সুরমা টাইমস রিপোর্ট :

সিলেটের গোয়ানঘাট সীমান্ত এখন চোরচালানের স্বর্গরাজ্য। সেই রাজ্যর নিয়ন্ত্রক এখন স্থানীয় প্রশাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,ও কতিপয় রাজনৈতিক লেবাসধারীসহ বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্যতিরেকে এদের সকলের পরিচয় পুলিশ কিংবা বিজিবির লাইনম্যান হিসাবে।

 

প্রতিমাসে চোরাচালানের এই লাইনম্যান আবার রদবদল করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, সার্কেল এসপি, বিট অফিসার, জেলা উত্তর ডিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ওসি ও বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কামান্ডাররা।

 

যার ফলে রেঞ্জ ডিআইজি, বা জেলার এসপি কোন নির্দেশ বা আদেশ কার্যকর হচ্ছেনা গোয়াইনঘাট থানা এলাকায়।

গত ২৩শে সেপ্টেম্বর সিলেট রেঞ্জে ডিআইজি মাসিক অপরাধ পর্যালোচনায় সভায় এসব সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ করতে জেলার এসপিদের কঠিন নির্দেশনা দিয়ে ছিলেন।

 

কিন্তু কোন নির্দেশনাই আমলে নেননি গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ ও সার্কেল সাহিদুল ইসলাম, এবং বিট অফিসার জহর লাল ।

তবে চোরাচালান বন্ধের বদলে পাল্টেছে চোরাচালান সচল রাখারার নিত্য নতুন কৌশল।

 

আগে প্রতি মাসে সীমান্তেরঘাট অলিখিত ইজারা দেওয়া হতো মাসিক ২০/২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে।

 

কিন্তু এখন চলছে কমিশনের খেলা। গতকাল সরেজমিন অনুসন্ধানে গোয়াইনঘাট এলাকায় গেলে নতুন করে উঠে আসে চোরাচালান ও চোরাকারবারীদের নতুন নিয়ন্ত্রকদের নাম।

এদের বেশীর ভাগই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পরিচয়দানকারী রাজনৈতীক লেবাসধারী সুবিধাভোগী।

আগে এসব চোরাচালানের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতো স্থানীয় আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ও শ্রমিকলীগের নেতারা।

গত ৫ই আগষ্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের জেরে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে এসব লাইন বর্তমানে নিয়ন্ত্রন করছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, ও শ্রমিকদলের নাম ব্যাবহারকারী কতিপয় কিছু লেবাসধারী পাতি নেতা।

 

যদিও চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার  অভিযোগে জেলা বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করেছে।

 

বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্বজাফলং সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। তিনি জাফলং গুচ্ছ গ্রামের সাদ্দাম রুহির ছেলে। তিনি চোরাচালানের মাঠে এখন অপ্রতিরোধ্য।

গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব বিশাল বাহিনী।

 

এই মান্নান মেম্বার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।

 

তার বাহিনীতে আছেন, নাজিম, জাহেদ, নূরুল শিকদার, রিয়াজুল, সিরাজুল, সেলিম আহমদ, রবিসহ আরো কয়েকজন।

মান্নান গ্রুপের সদস্যরা স্থানীয় থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ ও জেলা উত্তর ডিবির ওসির নামে চোরাচালানের টাকা উত্তোলন করেন।

 

এরা প্রতিবস্তা চিনি থেকে ২ শত টাকা চাঁদা আদায় করেন। এর মধ্যে ১শত টাকা প্রশাসনের জন্য বরাদ্ধ আর ১শত টাকা মান্নানের।

এরকম প্রতিদিন কয়েক হাজার বস্তা ভারতীয় চিনি সীমান্ত দিয়ে বাংলদেশে প্রবেশ করছে।

প্রতিকার্টন কিট ৫শত টাকা, কসমেটিক্স প্রতি কার্টন ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছে মান্নান ও তার গ্রুপের সদস্যরা।

পূর্ব জাফলং সীমান্তের নলজুরি, তামাবিল স্থলবন্দর, আমতলা, সোনাটিলা, সংগ্রাম পুঞ্জি, লালমাটি, সাইনবোর্ড,

ক্যাম্প ক্যান্টিন, জিরো পয়েন্ট, ও সিড়িঘাট পর্যন্ত মান্নান মেম্বারের একক নিয়ন্ত্রনে চলে চোরাচালান।

 

এসব স্পটে বিজিবির লাইনম্যান হিসাবে টাকা আাদায় করেন, হযরত, রজব আলী, আজির উদ্দিন, এবং ফয়েজ।

মান্নানের স্পষ্ট বক্তব্য পুলিশের কাছ থেকে কমিশনে লাইন এনে ব্যবসা করছি এসপি, ডিআইজির কিছু করার নাই।

KALA GU 13অপর দিকে উপজেলার মাতুরতল, সোনারহাট, পান্তুমাই, বাবুর কোনা এলাকার চোরাচালানের একক নিয়ন্ত্রন সাবেক যুবলীগ নেতা হাতিরখাল গ্রামের হাতিরখাল গোচর গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে কালামিয়া উরফে শ্যামকালা।

 

শ্যামকালা থানা ও জেলা উত্তর ডিবির ওসির নিয়োগকৃত লাইনম্যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বর্তমানে যুবলীগ থেকে যুবদলে পদ পেতে কালা মিয়া, উরফে শ্যামকালা, উরফে সলিড কালা ১০ লাখ টাকার একটি গোপনে চুক্তি করেছেন বলে জানান  স্থানীয় বাসিন্দারা।

সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবির সামন দিয়ে এসব চোরাচালানের পন্য দেশে প্রবেশ করলেও টাকার কাছে সকলেই ম্যানেজ হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন।

এসব বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) সরকার তোফায়েল আহমেদের মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আপনি তথ্য দেয়ায় এব্যপারে আমি অবহিত হলাম,আর শ্যামকালার নাম আমি শুনেছি,বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবো ।

 

এসব বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার এস আই ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার জহর লালের সাথে তার ব্যাবহৃত মুঠোফনে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য পাওয়া যায় নি ।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article