
সিলেট, ৫ সেপ্টেম্বর: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর হাতে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করতে আগ্রহী হলেও এখনও তাতে সদর দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি বলে জানিয়েছে একই সূত্র। তবে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সরাসরি আশ্বাসের পর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধেছেন নিহত ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার ও তার স্ত্রীর সন্তানরা। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরকালে নিহত দম্পতির দুই মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু স্বজনদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় মন্ত্রী তাদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন এবং জানান, এ বিষয়ে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য তারও আগে। ওই দিন সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি প্রথম মন্ত্রীর নজরে আনেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছ থেকে মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরে ঢাকায় ফেরার পথে বিষয়টি আবারও তার সামনে তুলে ধরেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের মহাপরিদর্শককে ফোন করে মামলাটি অভিজ্ঞ তদন্তকারী সংস্থা, অর্থাৎ পিবিআইকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশনা দেন।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগরীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির দুই মেয়ে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় থাকা পরিবারটির জন্য এই আশ্বাস কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে মামলার তদন্তভার হস্তান্তরের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা মেলেনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি এখনো এ সম্পর্কে কিছু জানেন না।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন ৯২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের এক গৃহকর্মী। ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় রঙমিস্ত্রি বাবুলকে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে জানায়, টাকার লোভে চুরি করতে গিয়ে তিনজনকেই হত্যা করেছে। কিন্তু নিহতদের পরিবার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে জমিজমা সংক্রান্ত গভীর কোনো বিরোধ। এমনকি নিহত সাত্তারের মেয়ে বাদী হয়ে থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন, সেখানেও এই বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখা হোক এবং প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও পিবিআইতে মামলা হস্তান্তরের সম্ভাবনা সেই দাবিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার নজর সদর দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং পিবিআইয়ের তদন্ত শুরুর দিকে, যার ওপর নির্ভর করছে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি।





