
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর: মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে জাতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কমিটি ও সিলেট বিভাগ, জেলা ও মহানগর শাখা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাদ যোহর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে পার্টির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী তাহমিনুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ওসমানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জিয়ারত ও মাজার মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ এডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম খানের পুত্র তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী গোলাম মর্তুজা, জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও গণদাবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান, সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আকলিছ আহমদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি দেলওয়ার হোসেন খান, মহানগরের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, প্রফেসর আব্দুল মুহিত, সেলিম আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বকুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুহিন আহমদ খান, দপ্তর সম্পাদক কিরণ দেব নাথ, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, জাকারিয়া তালুকদার, ইউছুফ শেলু, আব্দুল ওয়াদুদ, এমএজি ওসমানীর গাড়ি চালক বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, মহানগর দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনি সহায়তাকারী সংস্থার সিলেট আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ সবুজ, সহ-সভাপতি জাবেদ হোসেন, সংগঠনিক সম্পাদক সুহেল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক সুমন শিকদার ও আমির হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহমদ প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আবু ইউসুফ চৌধুরী ও হাফিজ আব্দুস সালাম।
দোয়া মাহফিল পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খান বলেন, জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতিকে সংগঠিত করে স্বাধীনতার মহান বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার সুদক্ষ রণকৌশলে দেশ মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা লাভ করে। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর, জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানীসহ সকল সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদকে।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন কোনোটিই টিকবে না। তিনি বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান অবনতির পথে রয়েছে, যেখানে শিক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য জনগণের নাগালের বাইরে চে গেছে, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ বেড়ে গেছে এসব বিষয়ে প্রতিকারের জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বঙ্গবীর ওসমানীর সব স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করাই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ। জাতীয় জনতা পার্টি বিশ্বাস করে, বঙ্গবীর ওসমানীর স্বপ্ন ছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তাই নির্বাচন এলাকাভিত্তিক হতে হবে ব্যক্তির ইমেজের ভিত্তিতে, যাতে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। তারা সংসদে গিয়ে নিজ নিজ দল বেছে নেবেন। এ ব্যবস্থায় মনোনয়ন বাণিজ্য ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে, বড় দলের অযাচিত প্রভাব কমবে এবং গণতন্ত্র জনগণের প্রকৃত অধিকারভিত্তিক হবে।
বিগত নির্বাচনে জাতীয় জনতা পার্টিকে নিবন্ধন না দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় তিনি কড়া প্রতিবাদ জানান।





