গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে মাদকবিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও ইয়াবাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরদিন আটকদের মধ্যে দুইজনকে মোবাইল কোর্টে হাজির করে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার বাসিন্দা শৈলেন্দ্র কুমার দাশের ছেলে সুমন কান্তি দাশ (৩০), নবীগঞ্জ থানার পুটারমাটি গ্রামের মৃত লেচু মিয়ার ছেলে আব্দুল বাছিত (৩০), চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর থানার হাইমচর এলাকার মনির মিয়ার ছেলে মো. রামিম আহমদ (২৫) এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার খরগ্রাম নয়াপাড়া এলাকার মৃত ছানু মিয়ার ছেলে মো. জুবের আহমদ (৩০)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১০টার দিকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোলাপগঞ্জ সার্কেল) শাহ আলম ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবেদ আলীর নির্দেশে এসআই উসমান গণি সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোলাপগঞ্জ পৌরসভার চৌমুহনী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন কান্তি দাশ ও আব্দুল বাছিত নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাদের হেফাজত থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অপর দুই আসামিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের সময় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন আলহেরা একাডেমির সামনে এসআই মো. রোজেল মিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স ও উপস্থিত জনসাধারণের সহায়তায় মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
পরে রোববার (৩০ আগস্ট) আটক দুইজনকে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় প্রত্যেককে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছবেদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের যথাযথভাবে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নতুন নয়। থানা পুলিশ সম্প্রতি এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার বিস্তার রোধে নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই অভিযানে একসঙ্গে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তি প্রদান মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।





