হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারতের চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়ার পর রোববার ভোরে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে ফের বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করেছে।
রোববার বিকেলের মধ্যে কালীগঞ্জসহ অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির ধান ও শাকসবজি। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
এদিকে, হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। সড়কের কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। এতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে এবং সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৯ জুলাই একই স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কারকাজে চরম গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। দায়সারাভাবে কাজ করায় বাঁধটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল অংশটি আবারও ভেঙে যায়।
সুঘর এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাঁধ মেরামতের কাজে ধীরগতি ও অনিয়ম ছিল। আগেরবারের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকরা যখন আমন চাষ করেছিল, তখনই ফের সব তলিয়ে গেল। এই ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির তীব্র চাপে বাঁধের দুর্বল অংশটি টিকতে পারেনি। বর্তমানে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কে কোমরসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়ায় নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যায়। তবে বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আগের ভাঙন অংশের সংস্কারকাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। entretanto, নতুন করে বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কৃষি, সড়ক যোগাযোগ ও জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।






