ঢাকা, আগস্ট ২৩, ২০২৬: দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) ইতোমধ্যে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে।
মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা পুনরায় চালুর খবরে দেশটিতে যেতে আগ্রহী শ্রমিক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শ্রমবাজারটি চালু হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও গতি ফিরবে।
এবার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিবন্ধিত ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে অনুমোদিত এজেন্সিগুলো কর্মী নিয়োগ ও প্রেরণের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির কারণ হয়ে এসেছে। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে এ বাজার পুনরায় খোলার পথ তৈরি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
নোয়াখালীর মহিউদ্দিন ও পাবনার পারভেস আলমের মতো মালয়েশিয়াগামী শত শত যুবক এখন নতুন আশায় অপেক্ষা করছেন। তাদের ভাষ্য, অন্যান্য দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ায় কাজের পরিবেশ ও বেতন তুলনামূলকভাবে ভালো। পাশাপাশি ভাষাগত জটিলতা কম থাকায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিল থাকায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা সেখানে তুলনামূলকভাবে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন। তবে একটি অসাধু চক্র শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এ চক্রের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য তাদের শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশটিতে কর্মী পাঠানো নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর বাংলাদেশ থেকে পুনরায় কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সবুজ সংকেত পাওয়া যায়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বায়রাভুক্ত সব সদস্য যেন সুষমভাবে কাজের সুযোগ পান এবং কর্মীরা যেন সর্বনিম্ন ব্যয়ে নিরাপদ অভিবাসনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটিতে নতুন কর্মী পাঠানো শুরু হবে।






