সাইবার অপরাধ রুখতে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান

সাইবার অপরাধ রুখতে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান - Surma Times | Sylhet News

সাইবার অপরাধ রুখতে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান - Surma Times | Sylhet Newsগোলাপগঞ্জ, ১৮ আগস্ট: সাইবার অপরাধ রুখতে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমসি একাডেমিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আমরা জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুভব করছি। কিন্তু মুদ্রার যেমন দুটি পিঠ থাকে, তেমনি প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ও অসচেতন ব্যবহারের ফলে আমরা মুখোমুখি হচ্ছি এক নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের—যাকে আমরা বলি ‘সাইবার অপরাধ’। সাইবার অপরাধের বহু রূপ থাকলেও, আজকের সময়ে সবচেয়ে মারাত্মক দুটি হুমকি হচ্ছে—সাইবার বুলিং এবং হ্যাকিং। অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল চুরি করছে। সাইবার অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবু সাইবার স্পেসে প্রযুক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ—আপনাদের সন্তানরা ইন্টারনেটে কী করছে, সে বিষয়ে নজর রাখুন—শাস্তির ভয় দেখিয়ে নয়, বন্ধুর মতো বুঝিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান।

সচেতনতামূলক এই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, হ্যাকিং ও প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আমাদের কয়েকটি মৌলিক বিষয় মেনে চলা জরুরি। সেগুলো হলো—শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং নিয়মিত তা পরিবর্তন করা, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা, অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো লিঙ্ক, ইমেইল বা মেসেজে ক্লিক না করা, এবং পাবলিক ওয়াই-ফাইতে গুরুত্বপূর্ণ বা আর্থিক তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকা। আমাদের পুলিশ প্রশাসনের রয়েছে সাইবার হেল্পলাইন এবং বিশেষায়িত সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তবে কেবল আইন দিয়ে বা সরকারের একার পক্ষে পুরো সাইবার বিশ্বকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন। কখনো সাইবার বুলিং বা হ্যাকিংয়ের শিকার হলে ভয় পেয়ে লুকিয়ে থাকবেন না। বিষয়টি পরিবারকে জানান এবং নিকটস্থ আইনি সংস্থার সহায়তা নিন। মনে রাখবেন, অপরাধী আপনি নন, অপরাধী সেই; যে বুলিং বা হ্যাকিং করছে।

এমসি একাডেমির অধ্যক্ষ ভানুজ কান্তি ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে পুলিশের উদ্যোগে সাইবার বুলিং, হ্যাকিং ইত্যাদি সচেতনতামূলক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

এদিকে, সোমবার দুপুরে উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামের বাসিন্দা মান্না আহমদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শনে যান এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। মঙ্গলবার ভোরে মান্না আহমদের বসতঘরের ৪টি কক্ষ অগ্নিকাণ্ডে একেবারে ভস্মীভূত হয়েছে। সাংসদ এমরান আহমদ চৌধুরী পরিদর্শনে গিয়ে মান্না আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান ও পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article