সিলেট, ১৬ আগস্ট: লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকরা। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ছয়টা থেকে এই কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা দুইটায় নগরীর প্যারাইরচক ট্রাক টার্মিনালস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সিলেটের বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।
সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রী আবু সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ লস্করের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার আহমদ সোহেল, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ জুবের, ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক এবং ট্রাক মালিক নেতা আক্তার রশীদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, কয়ছর আহমদ জালালী ও শাহজাহান আহমদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাউছার আহমদ, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, সহসম্পাদক মাহবুব মিয়া মবু এবং সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মত্তছির আলী।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা আহমদ আলী স্বপন, আব্দুল মতিন, সাইফুল আলম, মাছুম আহমদ, জুলহাস আহমদ বাদল, কামাল হোসেন, আব্দুল জলিল, আব্দুল করিম, ইলিয়াছ আহমদ, আলেক আহমদ সোহেল, জোমায়েল আহমদ জুমেল, আইন উদ্দিন, ফুল মিয়া, আফরোজ আলী, ফারুক আহমদ, সাইদুর রহমান সাইদুর, রাজু মিয়া এবং প্রবীণ শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, ইউসুফ মিয়া ও তুলা মিয়া।
সভায় নেতারা বলেন, শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানান তারা।
দাবির বিস্তারিত তুলে ধরে শ্রমিক নেতারা বলেন, ছাতক পৌরসভাসহ বিভিন্ন পৌরসভার নামে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরে তারা বলেন, এসব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিকদের ভোগান্তি কমবে না। সেতুর টোল পরিবহন খাতে বাড়তি ব্যয় তৈরি করছে এবং এর চাপ শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপরই পড়ছে, এই যুক্তিতে লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সভায় মোটর সংযুক্ত ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে পণ্য পরিবহন বন্ধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শ্রমিক নেতারা বলেন, এসব যানবাহনে পণ্য পরিবহনের কারণে ট্রাক ও পিকআপ শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন, যা পরিবহন খাতে বৈষম্য তৈরি করছে। পাশাপাশি গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানানো হয় সভায়। নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, নিয়মিত কাগজপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে হয়রানি বা অযথা সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া সভায় সংগঠনের সভাপতি আবু সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা ও অপপ্রচার বন্ধের দাবিও তুলে ধরা হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন তারা।
সভায় কর্মবিরতি সফল করতে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটের ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কর্মবিরতি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়।
শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, রোববার ভোর ছয়টা থেকে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এই কর্মবিরতির প্রভাব পড়তে পারে দুই রুটে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়, যা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।






