সিলেট, ৭ আগস্ট: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরে সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজখবর নিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহতদের শয্যাপাশে উপস্থিত হন। তারা আহতদের শারীরিক অবস্থা জানতে চান। দায়িত্বরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। মহান আল্লাহর দরবারে তাদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরীসহ নগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা।
নেতৃবৃন্দ শুক্রবারের দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও মর্মবেদনা প্রকাশ করেন। মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। মহান আল্লাহর নিকট তাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের মহাসড়কগুলোতে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মূল্যবান প্রাণহানির ঘটনা জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক। এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, চালকদের কর্মঘণ্টা ও দক্ষতা তদারকি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। জামায়াতে ইসলামী নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার সকাল প্রায় সাতটায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচ ও ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক শিশু এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা নয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।





