হবিগঞ্জ, ৫ আগস্ট: বানিয়াচংয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের কাজে গিয়ে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণী শ্লীলতাহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. জীবন আহমেদ লিটনসহ দুজনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার ১১ নম্বর মক্রমপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বুধবার (৫ আগস্ট) অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার নম্বর ৫ এবং তারিখ ০৫/০৮/২০২৬।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের শেখের মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জীবন আহমেদ লিটন (৩৫) এবং ১১ নম্বর মক্রমপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের কৃষ্ণ রায়কে (৫০)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ জুলাই দুপুরে বাদী তার মেয়েকে নিয়ে এনআইডি কার্ডের জন্মতারিখ অনলাইনে সংশোধনের জন্য বানিয়াচং বড় বাজারের ‘হাসিখুশি ডিজিটাল স্টুডিও’-তে যান। সেখানে উপস্থিত অভিযুক্তরা কৌশলে বাদীর হাতে ৫০ টাকা দিয়ে পান-সিগারেট কেনার কথা বলে তাকে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এ সময় স্টুডিওতে তরুণী একা থাকাকালে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জীবন আহমেদ লিটন তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং শ্লীলতাহানি ঘটান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় ২ নম্বর বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ারিশ উদ্দিন খানকে জানায়। তিনি সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মো. জীবন আহমেদ লিটন তাদের পথরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, সাংবাদিকদের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয় এবং মামলা না করার জন্য বাদীপক্ষকে ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এসব কারণে ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন জানান, বুধবার অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





