চট্টগ্রাম, ৪ আগস্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যবসার আড়ালে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নওশীন তাবাসসুম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। ‘চুড়ি মেলা’সহ বিভিন্ন নামে একাধিক ফেসবুক পেজ পরিচালনা করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নওশীন তাবাসসুমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী তাউসিফ জানান, তিনি ফেসবুকে প্রকাশিত বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি পোস্ট দেখে নওশীন তাবাসসুমের সঙ্গে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে পারিবারিক অর্থ বিনিয়োগ করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষে বিনিয়োগের মূলধন ও মুনাফা ফেরত না দিয়ে নওশীন বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন। পরে তিনি একাধিক চেক দিলেও সেগুলোর অর্থ পরিশোধ হয়নি।
তাউসিফের দাবি, দুটি চেকের বিপরীতে তিনি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) আইনে ৬ লাখ এবং ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার দুটি মামলা দায়ের করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নওশীন তাবাসসুমের কাছে তার মোট পাওনা ১৭ লাখ টাকা।
মামলার বাদীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই চট্টগ্রামের প্রথম মেট্রোপলিটন আদালত একটি মামলায় নওশীন তাবাসসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে দুটি মামলাই বিচারাধীন রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর নওশীন তাবাসসুম চট্টগ্রামের খুলশী থানার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে চলে যান। ওই ভবনের কয়েকজন ফ্ল্যাট মালিক দাবি করেন, বিভিন্ন পাওনাদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার খোঁজে সেখানে আসায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। পরে অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের সিদ্ধান্তে তিনি যে ভাড়া বাসায় থাকতেন, সেখান থেকে তাকে চলে যেতে বলা হয়।
ফ্ল্যাট মালিকদের অভিযোগ, নওশীন সেখানে আর বসবাস না করলেও এখনো বিভিন্ন ব্যক্তি তার খোঁজে তাদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন, যা তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘চুড়ি’ নাম ব্যবহার করে নওশীন তাবাসসুম একাধিক ফেসবুক পেজ খুলতেন। একটি পেজে কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সেটি বন্ধ করে নতুন নামে আরেকটি পেজ চালু করতেন। একইভাবে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পরে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ‘শখের চুড়ি’ নামে নতুন একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আবারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। বিষয়টি যাচাই করতে এক প্রতিবেদক গ্রাহক পরিচয়ে ওই পেজে যোগাযোগ করেন। পেজ থেকে প্রথমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আরেকটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে একজন নিজেকে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কথোপকথনের একপর্যায়ে নওশীন তাবাসসুমের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হলেও সাংবাদিক পরিচয় প্রকাশ করার পর ওই ব্যক্তি বক্তব্য পরিবর্তন করেন এবং পরে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট ‘শখের চুড়ি’ নামে ওই ফেসবুক পেজটি আর সক্রিয় পাওয়া যায়নি। তবে এটি নওশীন তাবাসসুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নওশীন তাবাসসুমের ভাই মুনতাসির আরমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া তার বোনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচালিত এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা দীর্ঘ সময় ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকেন। তারা অভিযোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে অভিযুক্তরা নতুন কৌশলে আরও মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হন। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।






