হবিগঞ্জ, ২৮ জুলাই: হবিগঞ্জে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার একমাত্র আসামি শাহীন মিয়া (২৪)কে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। সোমবার বিকেলে সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন ঘোপাল পশ্চিমপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিকটিম হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন উত্তর শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা এবং তার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। অভিযুক্ত শাহীন মিয়া পেশায় রাজমিস্ত্রী। বিভিন্ন কাজের অজুহাতে তিনি প্রায়ই ভিকটিমের বাড়ির আশপাশে যেতেন এবং সুযোগ পেলেই তাকে উত্যক্ত ও বিরক্ত করতেন। একপর্যায়ে কৌশলে ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ৩ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে ভিকটিমের বাবা-মা সাংসারিক কাজে বাইরে থাকাকালে শাহীন মিয়া তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে হবিগঞ্জ সদর থানাধীন ইনাতাবাদ এলাকার মাছুলিয়া আকড়া সংলগ্ন খোয়াই নদীর পাড়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনার পর ভিকটিম বিয়ের দাবি জানালে শাহীন মিয়া তা অস্বীকার করে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে ভিকটিমের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিএসসি, সিলেটের একটি যৌথ আভিযানিক দল সোমবার বিকেলে সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন ৮নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-১৩, তারিখ ০৮/০৬/২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী অধ্যাদেশ/২০২৫)-এর ৯(১) ধারার মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি শাহীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শাহীন মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ইনাতাবাদ এলাকার শরিফ মিয়ার ছেলে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।





