মৌলভীবাজার, ২৪ জুলাই: হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিতকরণ, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন এবং স্বল্পমূল্যে রেশন চালুর দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, সহ-সভাপতি শাহিন আহমদ ও জামাল মিয়া, প্রচার সম্পাদক রুহুল আমি রোহিত, হোটেল শ্রমিকনেতা সাজু আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আলমগীর মিয়া, রুহুল আমিন, মিজান মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরাও দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে, অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টে শ্রমিকদের জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, হোটেল মালিকরা প্রতিনিয়ত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের নামেমাত্র মজুরি প্রদান করছেন।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫-ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও অনেক মালিক তা দিচ্ছেন না। এর ফলে শ্রমিকদের যখন তখন চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। শ্রম আইন স্বীকৃত ৮ ঘণ্টার অধিক কর্মঘণ্টার জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ওভারটাইমের মজুরি না দিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২/১৩ ঘণ্টা ডিউটি করানো হচ্ছে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা বলেন, শ্রমআইনের অন্যান্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকেও শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলেছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মালিক ও মালিক সমিতির সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিও সম্পাদিত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সভায় বলা হয়, ২০১৫ সালের ২ জুলাই শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রমদপ্তরের মধ্যস্থতায় হোটেল মালিক সমিতির সঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদিত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গত বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁতে তা কার্যকর হয়নি বলেও সভায় অভিযোগ ওঠে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ না হলে শ্রমআইনের ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিকের ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধের কথাও বলা হয়েছে। তবে সরকারি আইন কার্যকরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা রয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শ্রমমন্ত্রী ৩০ জুন ২০২৬ এর মধ্যে হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের ডেডলাইন ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও হোটেল সেক্টরের শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইনের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সভায় দাবি করা হয়।
সভা থেকে নিত্যপণ্যের দাম কমানো, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, গ্যাস-বিদ্যুত-জ্বালানি থেকে আইএমএফর নির্দেশে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি বন্ধ, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। বক্তারা শ্রমিকদের ক্ষোভ যাতে বিক্ষোভে পরিণত হয়ে হোটেল সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।






