ইসকনের আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক: সিলেটে শতাব্দীর পর শতাব্দী হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থান

ইসকনের আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক: সিলেটে শতাব্দীর পর শতাব্দী হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থান - Surma Times | Sylhet News

ইসকনের আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক: সিলেটে শতাব্দীর পর শতাব্দী হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থান - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২১ জুলাই: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেট হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পুণ্যভূমি। সিলেট মানবতা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। হজরত শাহজালালের শিক্ষা ও আদর্শ এ অঞ্চলের মানুষকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে পরিচালিত করেছে। এছাড়া সিলেট শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য ভূমি। বহু শতাব্দী ধরে এখানে হিন্দু, মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন এবং একে অন্যের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটে সব ধর্মের মানুষ একে অন্যের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার অংশীদার। এখানে ধর্মীয় উৎসবগুলো শুধু একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই সম্প্রীতির ঐতিহ্য অতীতেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইসকন মানবসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা ও সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের কারণে সংগঠনটি সর্বমহলে প্রশংসিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসকন ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

আলোচনা সভায় ইসকন সিলেটের সম্পাদক ভাগবত করুণা দাস সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সিলেটে ইসকনের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। রথযাত্রা উৎসব আয়োজনের জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়, যা দেশের অন্য কোথাও খুব একটা দেখা যায় না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসকন সিলেটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধি গৌর দাস এবং যোগাযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস।

আলোচনা সভা শেষে ভক্তিমূলক সংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, সুধীজন এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি, মানবতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা তুলে ধরা হয়।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article