সিলেট, মঙ্গলবার: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ এর পৃথক দুই অভিযানে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে পুলিশের লুণ্ঠিত ৩টি টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে র্যাব-৯ সদর দপ্তর, সিলেট থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ০০.০৫ ঘটিকার সময় র্যাব-৯ সদর কোম্পানী, সিলেটের একটি আভিযানিক দল দক্ষিণ সুরমা থানাধীন হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বর মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বর হতে ফেঞ্চুগঞ্জ রোডস্থ সোনারগাঁও আবাসিক এলাকার একটি পরিত্যক্ত জায়গায় অস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে আনুমানিক রাত ০০.২০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে ঝোপের ভেতর রাখা একটি শপিং ব্যাগ থেকে পরিত্যক্ত ৩টি টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৯ জানায়, উদ্ধার করা টিয়ারগ্যাস গ্রেনেডগুলো বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত আলামত জিডি মূলে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিকটিম জিহাদ ইসলাম জয় (১৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানাধীন কুট্টাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১০/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক বিকাল ১৭.০০ ঘটিকার সময় তিনি তার পিতার সঙ্গে কুট্টাপাড়া এলাকায় নাইল্লা ভাঙ্গার মোড়ে মাছ ধরতে যান। পরে বাড়ি ফিরে না এলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং রাত ২১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানাধীন ঢাকা টু সিলেট হাইওয়ে রোডস্থ কুট্টাপাড়া মোড় এলাকার রাস্তার দক্ষিণ পাশে ঝোপের ভেতর তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।
র্যাব-৯ এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম পাওয়া যায়। তার পিতার ধারণা, অজ্ঞাতনামা বিবাদী বা বিবাদীরা তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
পরে গত ২০ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক বিকাল ১৬.০৫ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানাধীন কুট্টাপাড়া কবরস্থান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল থানার মামলা নং- ২০, তারিখ- ১৩/০৭/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এর মূলে তদন্তে প্রাপ্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সুজন মিয়া (৩৫), পিতা জয়নাল মিয়া, সাং- কূট্টাপাড়া, থানা- সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





