সিলেট, ২০ জুলাই: টেলিটক সিমের সকল প্যাকেজে মেয়াদহীন সুবিধা চালু ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দূরীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বৃহত্তর সিলেটের তিনটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে (জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে) এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সিলেট কল্যাণ সংস্থা (সিকস), সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা (সিবিযুকস) এবং সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা (সিপ্রকস)-এর যৌথ আয়োজনে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিবিযুকসের বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আজিজুর রহমান আজিজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, দ্বীপক রঞ্জন রায় তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী মিলাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কবি কামাল আহমদ, সহ-অর্থ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ ফরিদ আলী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আল-আমিন আহমদ, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোঃ সেলিম খান, যোগাযোগ ও সমন্বয় সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক কবি মকসুদ আহমদ লাল, সিলেট মহানগর কমিটির সভাপতি জাকারিয়া মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাকের এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক দিপক কুমার মোদক বিলু।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর, যা ২০০৫ সাল থেকে সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করতে সাশ্রয়ী কল রেট এবং মেয়াদহীন ইন্টারনেট, মিনিট ও এসএমএসসহ বিভিন্ন প্যাকেজ চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাশ্রয়ী যোগাযোগ সেবা প্রদান এবং “স্মার্ট বাংলাদেশ” বাস্তবায়নে টেলিটকের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমিত নেটওয়ার্ক, দুর্বল প্রচারণা এবং বিনিয়োগ সংকটের কারণে টেলিটক তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না। বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাশাপাশি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক দুর্বল, কল ড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে গ্রাহকরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের অভাব, নতুন প্রযুক্তি চালু ও টাওয়ার স্থাপনে সীমাবদ্ধতা এবং কার্যকর কাস্টমার সাপোর্টের ঘাটতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
সংগঠনগুলো টেলিটকের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে দ্রুত নতুন টাওয়ার স্থাপন, ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে অন্যান্য অপারেটরের সঙ্গে টাওয়ার ও ফাইবার শেয়ারিং চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজ চালু এবং সরকারি দপ্তরে টেলিটক ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, টেলিটক প্রতিষ্ঠার সময় সরকারের উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন। রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।





