
সিলেট, ২০ জুলাই: টানা বৃষ্টিপাতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে দুই নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় বন্যা চলছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানায়, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও বেড়েছে এবং আগামী দুই দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এ দুটি নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারি বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিলিমিটার, তুরায় ১০১ মিলিমিটার এবং আর কে এম সোহরায় ২৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া আসামের গোয়াহাটিতে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের মণিপুরের আঙ্গামি নাগা পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি ধারায় বিভক্ত হয়। পরে এ দুই নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজার এলাকায় মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করে, যা চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উজানের ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।





