ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিকদের স্মরণে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল এনইসি’র উদ্যোগে ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়েছে। এতে দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার এটিএম তুরাবসহ মোট পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয়।
রোববার দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এটিএম তুরাবের পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক ও এনইসি’র নির্বাহী সদস্য মুকতাবিস-উন-নূর।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণমাধ্যমের কাজ হলো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। তবে বিগত সময়ের শাসনামলে অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সেই দায়িত্ব পালন না করে তোষামোদীতে লিপ্ত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে বিএনপি কাজ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে সে লক্ষ্যে জাতিকে সচেতন রাখতে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল গঠিত হয়েছে। তিনি জানান, এ সংগঠনে ঢাকার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্পাদকদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, দ্য ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির এবং দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা সামসি আরা জামান এবং শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন।
আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের আত্মত্যাগকে স্মরণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহসিকতাকে সম্মান জানাতেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।





