শাল্লায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে সমিতি গঠনের প্রচারণা, সরকারি হলরুমে সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক

শাল্লায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে সমিতি গঠনের প্রচারণা, সরকারি হলরুমে সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক - Surma Times | Sylhet News

শাল্লায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে সমিতি গঠনের প্রচারণা, সরকারি হলরুমে সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক - Surma Times | Sylhet Newsসুনামগঞ্জ, ১৭ জুলাই: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষক সমিতি গঠনের প্রচারণায় নামার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কান্দারহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পাপরি কণা সরকারসহ কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাদের এই প্রচারণার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি সংগঠন হিসেবে একটি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই উপজেলা সরকারি গণমিলনায়তনে সম্মেলনেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের বেসরকারি সংগঠনের অনুষ্ঠান সরকারি গণমিলনায়তনে আয়োজনের বিধান নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাদি তালুকদারের নেতৃত্বে লক্ষীপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি খোকন, শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযুষ দাস, ভাডগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুবেল দাস, আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজিত দাস, উজানগাঁও ফকির আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক দিনব্যাপী বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রচারণা চালান।

এ সময় মুক্তারপুর, কান্দারহাটি, সীমের কান্দা, রৌয়া, খেরুয়ালা, আদিত্যপুর ও মোহনখল্লীসহ একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে এই প্রচারণা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস রায় জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে দুই থেকে তিনজন ছুটি নিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রচারণার নেতৃত্বদানকারী অনাদি তালুকদার কোনো ছুটি নেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “স্কুল চলাকালীন সময়ে যদি প্রচারণা না করি তাহলে আমরা শিক্ষক পাবো কোথায়? এটি একটি পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল চলাকালীন সময়েও আমরা যেতে পারি।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, স্কুল ফাঁকি দিয়ে এ ধরনের প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাসও জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সকল শিক্ষকের মধ্যে ঐক্য না থাকলে সরকারি গণমিলনায়তনে এ ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রচারণার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article