সিলেট, ৯ জুলাই: মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সিলেটে চারজন জেলা প্রশাসককে পদায়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ফিরে যেতে হয়। ১০ দিনেও তিনি সিলেটে যোগদান করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার নতুন ডিসি নিয়োগের ফলে সিলেটে যোগদানের আগেই জেলা প্রশাসক পদ হারালেন রেজা হাসান। এদিকে কুমিল্লায় তার স্থলাভিষিক্ত রোজী আকতার গত বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এরও আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সিলেটে যোগ দিতে ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন রেজা হাসান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ফিরে যেতে হয়। একাধিক প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সিলেটের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তির কারণেই তার যোগদান আটকে যায়।
সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম একাধিক আলোচিত পদক্ষেপ নেন। বিশেষ করে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নতুন ব্যবস্থাপনার ঘোষণা দেন। এরপর ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়।
এ ঘটনার পর প্রশাসনের ওই উদ্যোগকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই স্বচ্ছতার উদ্যোগকে সমর্থন করলেও মাজার ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে সমালোচনাও ওঠে। এই বিতর্কের মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। সরকারের একাধিক মন্ত্রী অবশ্য এই বদলিকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাজারের দীর্ঘদিনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতেই সারওয়ার আলম বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে প্রশংসা ও বিতর্ক দুটোই তৈরি হয়। প্রত্যাহারের পরদিনই বিদায়ী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব অর্পণ করেন এডিএম পিংকি সাহার কাছে। নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত তিনিই ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।





