কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, তেহরানে তৃতীয় দিনের শোকমিছিলে লাখো মানুষের ঢল

কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, তেহরানে তৃতীয় দিনের শোকমিছিলে লাখো মানুষের ঢল - Surma Times | Sylhet News

কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, তেহরানে তৃতীয় দিনের শোকমিছিলে লাখো মানুষের ঢল - Surma Times | Sylhet Newsতেহরান, ৭ জুলাই: ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

আল জাজিরার খবরে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে খামেনির মরদেহ তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে পৌঁছানো হয়। সেখানে শোকযাত্রা শেষে তার মরদেহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে নেওয়া হবে, যেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষ এতে অংশ নিয়ে সাবেক সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, এই শোকযাত্রার জনসমাগম ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার সমাবেশের সঙ্গে তুলনীয়।

শোকযাত্রায় একটি ট্রাকে খামেনির মরদেহ বহন করা হয়। একই ট্রাকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহও রাখা হয়। শোকাহত মানুষ কফিনের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিনও ছিল।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া হামিদ নামে এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভক্তি ঠেকিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এখানে এসেছি।” আরেক শোকাহত মারজিয়েহ বলেন, “আমরা আমাদের শহিদ নেতাকে জানাতে এসেছি যে তার রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা তার প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এসেছি।”

এদিকে, খামেনির উত্তরসূরি ও ছেলে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি জানাজায় উপস্থিত হননি। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামী বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসছেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৩৪ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাপ্রবাহ ইরানের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বের পরিবর্তনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article