কক্সবাজার, ৬ জুলাই ২০২৬: টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৮ জন মারা গেছেন। একই রাতে কক্সবাজার শহরে অপর একটি পাহাড়ধসে স্থানীয় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৫ জুলাই) মধ্যরাত ১টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
একই রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে ৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।
রাত ৩টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
এদিকে, সোমবার (৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধস হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলী আকবর নামের এক ব্যক্তিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুজন চিকিৎসাধীন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের পৃথক পৃথক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারি। ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।”
সর্বশেষ, ২০২৪ সালের ১৯ জুন টানা ভারী বর্ষণের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ১০ জন নিহত হন।






