
সিলেট, ৩ জুলাই: উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকেই সিলেটে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনা ও প্রস্তুতিতে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে।
বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশের সঙ্গে সিলেটেও এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে নগর ও গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় গ্রাহকরা দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও হারিকেনের আবছা আলোয় পড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরীক্ষার্থী। চার্জার লাইটও অকেজো হয়ে পড়ছে।
সিলেট এমসি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদাত আনোয়ার হিমেল জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের করুণ অবস্থা চলছে। পরীক্ষার সময় এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে পড়াশোনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে।
কানাইঘাটের স্কুলশিক্ষক আবদুর রহমান বলেন, ক্লাসরুমে প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা ঘামে ভিজে যাচ্ছে। রাতে ঘুমের ঘাটতির কারণে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরীক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি, যা তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আম্বরখানার এক ব্যবসায়ী জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বেচাকেনা থমকে গেছে। ফ্রিল্যান্সার ও রিমোট জবে নিয়োজিত তরুণরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৫৫ মেগাওয়াট। ফলে ৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে সিলেটেও লোডশেডিং কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশায় রয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।





