সুরমা টাইমস ডেস্কঃ ঢাকা: ছোট-বড় কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পাস হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। আজ সোমবার (২৯ জুন) অর্থবিল পাসের মাধ্যমে কর ও শুল্ক সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এরপর স্পিকার কণ্ঠভোটে বাজেট অনুমোদন করবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কী কী পরিবর্তন আসছে?
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছেঃ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে **৪ লাখ টাকা** করা হয়েছে। ফলে বার্ষিক বেতন ৬ লাখ টাকার নিচে যাদের আয় (বেতনের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত সুবিধাসহ), তাদের আয়কর দিতে হবে না।
- টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়: ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হচ্ছে।
- জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের বিধান বাতিলঃ নতুন এ বিধান পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- শেয়ারবাজারে স্বস্তিঃ তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর ২০ শতাংশ করহার বহাল রাখা হচ্ছে।
- খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ০.২০% অগ্রিম কর প্রত্যাহার।
- স্বর্ণের মূলধনি কর কমতে পারেঃ ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন।
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করঃ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার আলোচনা চলছে।
এছাড়া কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্কে সামান্য রেয়াত, তৈরি পোশাক খাতের উৎসে কর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুবিধাসহ কয়েকটি বিষয়ে সংশোধন আসতে পারে।
মূল কাঠামো অপরিবর্তিত
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এনবিআরের বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বাজেটের মূল আকার, কাঠামো ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত থাকছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এটি শিথিল করা সঠিক সিদ্ধান্ত।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে আরও স্পষ্ট ও ধারাবাহিক নীতি প্রয়োজন।
নতুন অর্থবছর ১ জুলাই থেকে শুরু হবে। বাজেট পাসের পর এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।






