তুরাগে তিনটি মৃত্যু, সাতজন নিখোঁজের গুজবে আগুন

তুরাগে তিনটি মৃত্যু, সাতজন নিখোঁজের গুজবে আগুন - Surma Times | Sylhet News

ছেলের লাশ তুলে এনে ছবি-মোবাইল সব ভেঙে ফেললেন বাবা-মা!

তুরাগে তিনটি মৃত্যু, সাতজন নিখোঁজের গুজবে আগুন - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ  ছেলেকে হারানোর অসহ্য যন্ত্রণায় সব স্মৃতি মুছে ফেলতে চেয়েছেন বাবা-মা। মোবাইল ভেঙে ফেলা হয়েছে, ছবি ডিলিট, ঘরের ছবিগুলোও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এমনই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে শনিবার দুপুরে তুরাগের রানাভোলায় ১৭ বছরের সুমনের ভাড়া বাসায়।

শুক্রবার তুরাগ নদ থেকে সুমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিলের পর সাতজন নেতা-কর্মী নিখোঁজ এবং তাদের তিন-চারজনের লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয়েছে—এমন দাবিতে ভাইরাল হয়েছে অসংখ্য পোস্ট। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে এসব তথ্য ছড়ানো হয়।

কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পুলিশ, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুরাগ নদে মোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সাতজন নিখোঁজ বা একাধিক রাজনৈতিক হত্যার কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলেনি।

পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য: ভিত্তিহীন অপপ্রচার

শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ”—এমন শিরোনামে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সবাইকে এসব মিথ্যায় বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারও একই সুরে বলেছেন, মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

উত্তরা ফায়ার সার্ভিস, রূপনগর, দারুস সালাম, তুরাগ থানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২ জুন থেকে শনিবার পর্যন্ত তুরাগ নদ থেকে শুধু তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এগুলো পৃথক পৃথক ঘটনা।

তিনজনের পরিবার যা বলছে

সুমন (১৭): কামারপাড়া আড়তে কাচামালের ব্যবসা করত। ২২ জুন পিকনিকের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। সাঁতার জানত না। আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ২৫ জুন রাতে মরদেহ উদ্ধার হয়। পরিবার অপমৃত্যুর মামলা করেছে। সুমনের ফেসবুকে দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিডিও পাওয়া গেলেও পরিবার এখন কোনো কথাই বলতে চায় না। শোকে সব স্মৃতি মুছে ফেলেছে।

আরিফ হাসান রাকিব: ২২ জুন বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ। পরে মরদেহ উদ্ধার হয়। চাচা আরশাদুল ইসলাম বলেন, “সে রাজনীতি করত কি না আমরা জানতাম না। মৃত্যুর পর ভিডিও দেখে জেনেছি। সাঁতার ভালো পারত না।” অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

রনি মোল্লা (৩৫): ২৪ জুন দিয়াবাড়ি ঘাটে গোসল করতে গিয়ে ডুবে যান। বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, “রনির মানসিক সমস্যা ছিল। রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না।”

পুলিশ বলছে, এসব ঘটনা আলাদা আলাদা এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা হয়েছে। রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তুরাগ নদের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে অপপ্রচার চলছে, তা যেন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট না করে—এমনটাই চান সাধারণ মানুষ। পরিবারগুলো এখন শুধু শোক সামলাতে চায়।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article