সুরমা টাইমস ডেস্কঃ একের পর এক অভিযানে সিলেটে উদ্ধার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ডেটোনেটর ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় র্যাব ও বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে মিলছে এসব ভয়ঙ্কর সামগ্রী। এ নিয়ে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— কারা এসব অস্ত্র মজুত করছে? কী উদ্দেশ্যে?
চলতি মাসে র্যাব-৯ ও বিজিবির পৃথক অভিযানে অন্তত **১০টি** আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পাওয়ার জেল, ডেটোনেটর, ফিউজ ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী।
সাম্প্রতিক উদ্ধার
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভূনবীর ইউনিয়নের রাজপাড়া এলাকার একটি বাঁশবাগান থেকে **৫টি** চায়না এয়ারগান উদ্ধার করে র্যাব। এর আগে ১৮ জুন গোলাপগঞ্জের উত্তর কানিশাইল এলাকা থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৬টি পাওয়ার জেল, ৮টি ডেটোনেটর ও থানা থেকে লুট হওয়া ২টি টিয়ারশেল উদ্ধার হয়।
২৪ জুন রাতে বিয়ানীবাজার-বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হয় **৩টি** বিদেশি পিস্তল, ৩ কেজি পাওয়ার জেল-৯০, ২৪টি ডেটোনেটর ও কুকরি চাপাতি।
এয়ারগান থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাখি শিকারের জন্য ব্যবহৃত অবৈধ এয়ারগান সীমান্ত দিয়ে আসছে। এগুলো পরিবর্তন করে তৈরি করা হচ্ছে একনলা বন্দুক। খনিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরকও চলে আসছে অপরাধীদের হাতে।
লুট হওয়া অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিলেট মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে এখনও ১৮টি উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৪০ রাউন্ড গুলির মধ্যে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৫৪১ রাউন্ড। বাকি প্রায় ৫ হাজার ২০০ রাউন্ড গুলির এখনও কোনো হদিস নেই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, লুট হওয়া অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় সিলেটে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, ক্রাইম ম্যাপিং ও যৌথ অভিযান জরুরি।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উদ্ধারকৃত এয়ারগানগুলো অবৈধ। অনেক সময় এগুলো দিয়ে একনলা অস্ত্র তৈরি করা হয়। অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
চলতি বছরে র্যাব-৯ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।
সিলেটে অস্ত্র উদ্ধারের এ ধারাবাহিকতা যেমন স্বস্তির খবর, তেমনি অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশাসন বলছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






