লক্ষ্মীপুর: স্বামীকে হারিয়ে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালাচ্ছিলেন শাহিনুর বেগম (৩৮)। সেই সংসারে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে নেমে এলো চির অন্ধকার। দুর্বৃত্তের কোপে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে। বেঁচে গেছেন একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন (১৮)।
নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। সবাই রায়পুর উপজেলার কুমিল্লা বাসিন্দা।
**ঘটনার বিবরণ**
সিফাত সকালে বাসার কাছেই রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের দোকানে কাজে যান। বেলা ১১টার দিকে খবর আসে মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে বাসায় ছুটে যান সিফাত। মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা হত্যাকারী অন্তর মজুমদার (২৮) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। অন্তরের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর বলে জানা গেছে।
**৭ বছর আগে স্বামী হারানোর পর কষ্টের সংসার**
২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সিফাতের বাবা কামাল হোসেন। এরপর থেকে শাহিনুর বেগম একাই সংসারের হাল ধরেন। বড় মেয়ে সায়মা এসএসসি পাস করে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মেজো মেয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে শিফা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। সিফাত রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানে কাজ করতেন।
**এলাকায় উত্তেজনা**
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলে পুলিশের ৬-৭ সদস্য আহত হন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”
একসঙ্গে মা ও তিন বোন হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সিফাত। তার আর কেউ নেই এ পৃথিবীতে। এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।





