সুরমা টাইমস ডেস্কঃ গাইবান্ধা: একের পর এক স্বজন হারানোর বেদনা আর বিচারহীনতার হতাশায় অবশেষে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়িয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল তোতা (৪০)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে প্রতীকীভাবে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
দুই স্বজনকে হারিয়ে নিঃস্ব তোতা
আব্দুল জলিল তোতা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সমর্থক থেকে সক্রিয় কর্মী হিসেবে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান এবং একটি বুথের দায়িত্বও পালন করেন।
কিন্তু স্বজন হারানোর শোক তাকে ভেতরে ভেতরে ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, “২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। আট বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই হত্যার বিচার হয়নি। এর মধ্যে গত ২১ জুন আমার মামাতো ভাই, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
কণ্ঠ ভারী করে তিনি আরও বলেন, “বারবার স্বজন হারানো আর বিচার না পাওয়ার কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। এই রাজনীতি শুধু মানুষের মধ্যে বিভেদ আর রক্তপাত বাড়াচ্ছে। তাই আমি এই নোংরা রাজনীতি ছেড়ে দিলাম। এখন থেকে শুধু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই।”
বিচারের দাবি অটুট
আব্দুল জলিল তোতা জোর দিয়ে বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় চাই না। শুধু ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
স্থানীয়রা জানান, স্বজন হারানোর গভীর শোক ও বিচারহীনতার হতাশা থেকেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
বিএনপির অবস্থান
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, “আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। দলের কোনো কমিটিতেও তিনি ছিলেন না। এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দল এর দায় নেবে না।”
রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার কারণে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।






