সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হুইপ জিকে গৌছসহ ৯ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন জানান, আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ে প্রতিক্রিয়া
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, “আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।” রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আজিজ নাঈমকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে খালাস পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতারা।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “রাজনৈতিক হয়রানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এ মামলায় জড়িয়েছে। এজাহারে আমাদের নাম ছিল না, পরে সম্পূরক চার্জশিটে ঢোকানো হয়েছে। আজ সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলাম। যারা নির্যাতন করেছে তারা এখন পালিয়েছে, আর আমরা খালাস পেয়েছি।”
হুইপ জিকে গৌছ বলেন, “দীর্ঘদিন বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে। আজ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।”
আজিজ নাঈম কে?
জগন্নাথপুরের সৈয়দপুরের বাসিন্দা আজিজ নাঈম বিভিন্ন বোমা ও জঙ্গি হামলা মামলার আসামি। প্রায় ২০ বছর জেল খেটেছেন তিনি। সুরঞ্জিত সেন হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আনোয়ার চৌধুরী, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, শাহ এএসএম কিবরিয়াসহ একাধিক হামলা মামলায় তার নাম ছিল। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় যুবলীগ কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ২০২০ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
মামলায় ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন জেলহাজতে, ৩ জন জামিনে এবং একজন পলাতক রয়েছেন। রায়ের পর আদালত চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়।






