আশুরা: ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের চিরন্তন শিক্ষা

আশুরা: ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের চিরন্তন শিক্ষা - Surma Times | Sylhet News

আশুরা: ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের চিরন্তন শিক্ষা - Surma Times | Sylhet Newsমুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিকঃ ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররম মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মাসের ১০ তারিখ, আশুরা, ইতিহাস, ইবাদত এবং আদর্শিক শিক্ষার এক গভীর তাৎপর্যময় দিন হিসেবে বিবেচিত।

ইসলামি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, এই দিনে আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এজন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিনে রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে, এ দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়।

তবে আশুরার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষণীয় অধ্যায় হলো কারবালার ঘটনা। হিজরি ৬১ সালের এই দিনে ইমাম হুসাইন (রা.) অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি ক্ষমতা বা পার্থিব স্বার্থের জন্য নয়, বরং ইসলামের নৈতিকতা ও আদর্শ রক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন।

কারবালার শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্যের পথে চলা কঠিন হলেও সেটিই মানবিক মর্যাদার প্রকৃত পথ। অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং নৈতিকতার প্রশ্নে আপস না করাই একজন সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

আশুরা শুধু শোকের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং আদর্শিক জাগরণের দিন। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, সহমর্মিতা ও ত্যাগের চর্চাই এ দিনের মূল শিক্ষা।

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আশুরা বিভিন্ন ইবাদত, রোজা ও আলোচনা মাধ্যমে পালন করেন। তবে এর প্রকৃত তাৎপর্য তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন আমরা কারবালার আদর্শকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করতে পারব।

আসুন, আশুরার এই মহান দিনে আমরা সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার অঙ্গীকার করি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক
মোবাইল নং- 01712-482506
[email protected]

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article