সুরমা টাইমস ডেস্কঃ অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পনা ও নির্মাণের ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়েছে ইসরাইল।
মঙ্গলবার ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির কিছু অংশ কার্যত বাতিল করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে এতদিন ওই এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিতভাবে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হেবরনের যে অংশ ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে এখন থেকে পরিকল্পনা ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে তেল আবিব। এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি কর্তৃত্ব আরও জোরদার হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্মোট্রিচ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই হেবরন পশ্চিম তীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর একটি, আর এই সিদ্ধান্ত সেখানে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান তিন ধর্মাবলম্বীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের কাছে এটি একটি পবিত্র মসজিদ, আর ইহুদিদের কাছে এটি ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ নামে পরিচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে হজরত ইব্রাহিম আ., ইসহাক আ. ও ইয়াকুব আ.-এর সমাধি রয়েছে।
১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির মাধ্যমে শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি অংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং অন্য অংশ ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে পরিকল্পনা ও নির্মাণ তদারকির ক্ষমতা ফিলিস্তিনিদের কাছেই ছিল, যা এখন পরিবর্তিত হলো।
এদিকে আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী ইসরাইলি নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সেখানে ‘স্থিতাবস্থা’ পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা মুসলিম বিশ্বে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।






