
সিলেটে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহে পালিত হলো প্রভু মদনগোপালের তিরোধান তিথি। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণসভা, ধর্মীয় আলোচনা এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রভু মদনগোপাল পদক’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভক্তদের উপস্থিতিতে নির্ম্বাক আশ্রম পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
রোববার (১৫ জুন) শ্রী শ্রী হরিভক্তি প্রচারিণী সভা, সিলেট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল সাড়ে ৯টায় ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে। এতে অংশ নেন ভক্তবৃন্দ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রী শ্রী হরিভক্তি প্রচারিণী সভা, বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট শ্রী মুকুন্দ চন্দ্র দেবনাথ। সভাপতিত্ব করেন সিলেট শাখার সভাপতি শ্রী শিশির রায়। স্মরণসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশলী শ্রী দেবদাস রায় এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ কুমার দেব। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক স্থপতি শ্রী জিষ্ণু কুমার দাস।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে প্রভু মদনগোপালের জীবন, কর্ম ও আধ্যাত্মিক দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, মানবকল্যাণ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর শিক্ষা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তারা তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি জোরদারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘প্রভু মদনগোপাল পদক’ প্রদান। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং নিতাইচাঁদের মহিমা প্রচারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর পদক পান বিশিষ্ট সমাজসেবক শ্রী বাদল কুমার দে (মরণোত্তর) এবং প্রভু মদনগোপালের আদর্শ প্রচারে নিবেদিতপ্রাণ শ্রী দেবদাস রায়।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ধর্মীয় শাস্ত্র পাঠ, আধ্যাত্মিক সংগীত পরিবেশন, ভক্তিমূলক আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।-বিজ্ঞপ্তি





