এমপি এমরানের প্রশ্নে মন্ত্রীর সুখবর
সুরমা টাইমস রিপোর্টঃ সিলেটের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারসহ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনের উন্নয়ন কাজ হাতে নিচ্ছে সরকার। এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর সংসদীয় প্রশ্নের জবাবে এ সুখবর দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সিলেট-৬ আসনের এমপি অ্যাড. এমরান আহমদ চৌধুরী বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, গোলাপগঞ্জের প্রধান বাজারসহ এলাকায় অগ্নিকাণ্ড রোধে ভূগর্ভস্থ (আন্ডারগ্রাউন্ড) বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কোনো পাইলট প্রকল্প নেওয়া হবে কি না।
জবাবে মন্ত্রী জানান, ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণে খরচ ওভারহেড লাইনের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি। তাই বর্তমানে সরাসরি ভূগর্ভস্থ লাইনের পরিকল্পনা নেই। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ‘বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ)’ প্রকল্পের আওতায় গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ সিলেট জেলার সব উপজেলায় বিদ্যমান বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটের বিদ্যুৎ সেবার মান অনেক উন্নত হবে। বিশেষ করে বাজার ও জনবহুল এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
একই অধিবেশনে গ্যাস সংকট নিয়েও প্রশ্ন করেন এমপি এমরান। তিনি জানতে চান, গ্যাসসমৃদ্ধ এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সিএনজি স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট কেন এবং এটি দূর করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশব্যাপী গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ঘাটতির কারণে ২০১৫ সাল থেকে নতুন সংযোগ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে অনুমোদিত লোড অনুযায়ী সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমায় এবং আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে ঘাটতি পূরণ হলে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সংকট কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিলেটবাসী মনে করছেন, বিদ্যুৎ খাতে এই আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর নিয়মিত সংসদীয় তৎপরতায় সিলেটের দাবি-আকাঙ্ক্ষা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসছে বলেও স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।





