সুরমা টাইমস রিপোর্টঃ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় হবিগঞ্জ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
জেলার ১০৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে। বিজিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হয়েছে। একই সঙ্গে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পুশ-ইনের ঝুঁকি, সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং তথ্য প্রদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব কার্যক্রমে গ্রাম পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বিজিবির অধিনায়কের বক্তব্য
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহার করে রাত্রিকালীন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল এলাকার বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, “মাইকিং ও উঠান বৈঠকে আমরা অনেক সচেতন হয়েছি। বিজিবি রাত-দিন পাহারা দিচ্ছে, এতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।”
মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার চা-বাগান কর্মী মোহন লাল বলেন, “উঠান বৈঠকে বিজিবি আমাদের পুশ-ইন বিষয়ে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিয়েছে। সন্দেহজনক লোকজন দেখলে কীভাবে তথ্য দিতে হবে, সেটাও জানানো হয়েছে।”
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও অংশীদারিত্বমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে হবিগঞ্জ সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে ৫৫ বিজিবি।





