
ইব্রাহিম চৌধুরী (খোকন) এথেন্স, গ্রিস ::
সম্প্রতি ইউরোপ সফরের এক পর্যায়ে ঐতিহাসিক এথেন্স নগরীতে এক চমকপ্রদ ও তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ঘটে দুই বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যক্তিত্বের মধ্যে।
তারা হলেন — স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ফয়ছল চৌধুরী এমবিই এমএসপি এবং বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সাবেক হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।
এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশ্বমঞ্চে অবস্থান, নেতৃত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফয়ছল চৌধুরী, যিনি শুধু স্কটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যই নন, বরং গোটা যুক্তরাজ্যে একমাত্র পুরুষ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংসদ সদস্য হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
তার সঙ্গে প্রবাসী গর্বের আরও একটি নাম রুশনারা আলী এমপি, যিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত হন।
তারা দুজনই প্রমাণ করেছেন— মেধা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের গুণে, প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব।
ফয়ছল চৌধুরী ২০২১ সালে লেবার পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে স্কটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, যুব উন্নয়ন, এবং বাংলাদেশিদের ঐক্য-সংহতিতে বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সাক্ষাতে তিনি বলেন, “যে দেশে আমরা আছি, সেখানে আমাদের সক্রিয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।”
আলোচনায় উঠে আসে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়েও মতবিনিময় হয়।
ভিন্ন মত থাকলেও আলাপ ছিল পরস্পর সম্মানপূর্ণ, বস্তুনিষ্ঠ ও প্রগতিশীল মানসিকতার প্রতিফলন।
এই সাক্ষাৎ কেবল মতবিনিময় নয়, বরং ছিল আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক শিকড় ও নেতৃত্বগুণের এক সম্মিলিত উদযাপন।
“ফয়ছল চৌধুরী ও রুশনারা আলীর মতো নেতৃত্ব প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা,”— বলেন এক অংশগ্রহণকারী। “তাদের অর্জন শুধু ইতিহাস নয়, তা আগামী প্রজন্মের পথনির্দেশক।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি ছিল এক অনুপ্রেরণার বার্তা—জানিয়ে দিল, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা যায় সম্মানের সাথে।



