নিজস্ব প্রতিবেদকঃঃ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ বাংকার এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় গাছ পড়ে কয়েছ আহমদ (৩৮) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন। আহতরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বুধবার (১৯শে মার্চ) মধ্যরাতে উপজেলার ভোলাগঞ্জ বাংকার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত শ্রমিক কয়েছ নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত মমরাজ মেম্বারের পুত্র। তিনি স্থানীয় দয়ারবাজার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতে কয়েকজন শ্রমিক বাংকার এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছিলেন। এসময় আকস্মিকভাবে একটি গাছ ধসে পড়লে তারা গাছের চাপায় পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে ৩ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় গাছ পড়ে কয়েছ নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।
লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
তবে, প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। গভীর গর্ত খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের কারণে বাংকার এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত স্থানীয় লোকজনের বরাতে জানা গেছে যে, আগে লোকেরা আড়ালে-আবডালে পাথর তুলত কিন্তু ৫ আগস্টের পর সিকিউরিটি বাহিনীর আবাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙচুর হওয়ার পর থেকে পাথর উত্তোলন প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে।
মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও লুটপাটকারীরা সটকে পড়ে এবং অভিযান শেষ হলে আবারো শুরু হয়ে যায় পাথর উত্তোলন।
যদিও দিনের বেলা উত্তোলন কম থাকে তবে বিকেল ও রাতের সময় পুরো এলাকায় অবাধে পাথর তোলা হয়।
ছাতক পর্যন্ত যাওয়া রোপওয়ের পিলারগুলো হেলে পড়েছে। অনেক স্থাপনা ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিতে বেশ কিছু স্থাপনা।
বাংকার এলাকার অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সম্পদ দুটোই ধ্বংসের মুখে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।