হোটেল সেক্টরে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিল সমাবেশ

হোটেল সেক্টরে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিল সমাবেশ - Surma Times | Sylhet News

micil 05.06.231

আজ ৫জুন বিকেল ৪ টায় হোটেল সেক্টরে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি:নং চট্ট-১৯৩৩) বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির উদ্যেগে মিছিল সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।

 

মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেন্দিবাগ পয়েন্টে এসে বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিনের পরিচালনায় সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদ রমজান আলী পটু, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী।

সমাবেশ আরো উপস্থিত ছিলেন; সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সভাপতি মো.মনির হোসেন, জেলা কোষাধ্যক্ষ মুহিদুল ইসলাম, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ ভূইয়া, জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক বদরুল আজাদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, তালতলা আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক শাহাবুদ্দিন আহমদ, চন্ডিপুল আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর প্রমুখ ;
বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে হোটেল শ্রমিকদের জীবন আজ বিপর্যস্থ। তার সাথে গ্যাস, বিদ্যুত, গাড়ী ভাড়া, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা খরচ, শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিক পরিবারগুলো দিশেহারা ।

 

আর জীবনযাত্রার এই অসহনিয় ব্যয় মিটাতে একজন শ্রমিক তার পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য নি¤œতম যে মজুরির প্রয়োজন তা থেকে হোটেল শ্রমিকরা আজও বঞ্চিত। যার ফলে শ্রমিক ও তার পরিবার আজ মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য। এই রকম পরিস্থিতিতে সরকার ২০২৩-২৪ সালের বাজেটে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়ে, কর-ভ্যাট টেক্র এর বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।

 

শ্রমিকরা যখন বেতন বৃদ্ধি করার কথা বলছে তখন তাদেরকে বে-আইনি ভাবে চাকুরিচ্যুত হতে হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ শ্রম আইনে বলা হয়েছে প্রতিবছর অন্তর শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের শ্রম আইনে শ্রমিকদের জন্য যে সকল অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে তা শুধু কাগজে কলমে। শ্রম আইন বাস্থবায়নকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান “কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক” নামে আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তারা কখনো শ্রমিকদের খোঁজ খবর নেননা।

বক্তারা আরো বলেন; বাজার দরের সাথে সংহতি রেখে ন্যূনতম মূল মজুরি ঘোষনা করে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে যথাক্রমে মূল মজুরির ৬০%, ৫৫% ও ৫০% বাড়িভাড়া , ১৫০০ টাকা যাতায়াত ভাড়া এবং ১৫০০ টাকা চিকিৎসা খরচ প্রদান করা। প্রতি বছর মূল মজুরির সাথে ১৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ বাজার দরের সাথে মজুরির সমন্বয় ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা। নিয়োগপত্র , পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই এবং সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমেত্তিক ছুটি, অসুস্থতা জনিত ছুটি, অর্জিত ছুটি, উৎসব ছুটিসহ শ্রম আইনে বর্ণিত সমস্ত ছুটি মজুরিসহ প্রদান করা।

 

দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুন মজুরি , চাকরিচ্যুত কারনে ৪ (চার) মাসের নোটিশ পে অথবা নোটিশের পরির্বতে ৪(চার) মাসের মজুরি প্রদান, বছরে ২ টি উৎসব বোনাস প্রদান এবং শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী সকল শ্রম আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল করে, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রনয়ণ করা, সভা, সমাবেশ, ধর্মঘট এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা , শ্রমঘন এলাকায় প্রয়োজনীয় শ্রম আদালত গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা। শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থ্া চালু করা, মালিক ও সরকারের উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য কোয়াটার তৈরি করে স্বাস্থ্যকর থাকার ব্যবস্থা ও বিনা বেতনে সন্তানদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান।

 

 

—বিজ্ঞপ্তি ।।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article