‘তবলীগওয়ালা মুল্লা’ ৮০০ ইয়াবাসহ গ্রেফতার

‘তবলীগওয়ালা মুল্লা’ ৮০০ ইয়াবাসহ গ্রেফতার - Surma Times | Sylhet News

‘তবলীগওয়ালা মুল্লা’ ৮০০ ইয়াবাসহ গ্রেফতার - Surma Times | Sylhet Newsসুনামগঞ্জ, ২ নভেম্বর: সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছালেক আহমদ (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘তবলীগওয়ালা মুল্লা’ ও যুবলীগের কর্মী নামে পরিচিত। ছালেককে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ছাতক থানা পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন, পিপিএমের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মুহাম্মদ শরীফুল আলম ও এএসআই ইমাম আহাদসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। কালারুকা ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের জনৈক সেলিমের বসতঘরের বারান্দা থেকে ছালেক আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ছালেক আহমদ ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের দিঘলী রামপুর গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজারের সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট ও নতুন গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় ছালেকের নেতৃত্বে ইয়াবা ও গাঁজার কারবার চলত। সব সময় সাদা পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরিহিত অবস্থায় চলাফেরা করায় এলাকায় তিনি ‘তবলীগওয়ালা মুল্লা’ নামে পরিচিত ছিলেন বলে তাদের দাবি। এমনকি তার বাসার ওপর তলার একটি কক্ষে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসত বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এ ঘটনায় এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলম বাদী হয়ে ছাতক থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গ্রেফতার ছালেক আহমদকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ছাতক থানার ওসি মো. কামাল হোসেন, পিপিএম জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, মাদক কারবারে ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় আড়াল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। পোশাক ও চলাফেরার ধরন দিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। ছাতকের ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এখন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে তদন্তে চক্রের বাকি যোগসূত্রও বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article