হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি

হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি - Surma Times | Sylhet News

হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৩১ আগস্ট: হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বেলা ১২টায় সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে তা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যকরী সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া, সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক রাশেদ আহমদ ভূইয়া, একাদশ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতা আনোয়ার হোসেন, শাহপরান থানা কমিটির সহসভাপতি আলীম উদ্দিন, সদস্য মোহাম্মদ আলী, অনূকুল চন্দ্র দাস এবং বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির দপ্তর সম্পাদক মনোয়ার হোসেন।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প মজুরি, অনিশ্চিত চাকরি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ শ্রমিক তা পান না। নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের জন্য আইনানুগ মজুরিও পরিশোধ করা হয় না।

গত বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংগ্রাম পরিষদ মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে। শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর ৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বৈঠকে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস পাওয়ায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে শ্রমিক-মালিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি কিছু কার্যক্রম চালালেও তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ও ন্যায়সংগত দাবি আদায়ের আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিশেষ করে ঢাকা স্টার কাবাব রেস্তোরাঁ গ্রুপের শ্রমিক নেতা মনির হোসেন, আল আমিন সর্দার, নাহিদ প্রধান ও জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। নেত্রকোনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রংপুরের হোটেল শ্রমিক শাওন হত্যাকাণ্ডসহ শ্রমিক হত্যার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক বিচার, দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন শ্রমিকদের কোনো দয়া বা করুণার বিষয় নয়। এটি তাদের আইনগত অধিকার। অবিলম্বে গেজেট অনুযায়ী মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইনের পূর্ণ প্রয়োগ, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার আইনানুগ মজুরি নিশ্চিত এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, ন্যায়সংগত দাবি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সংগঠিতভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকদের আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া মুক্তির কোনো পথ নেই।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article