নেপালের বন্যার প্রভাব: ভারতে সতর্কতা, খোলা হলো গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬ গেট

নেপালের বন্যার প্রভাব: ভারতে সতর্কতা, খোলা হলো গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬ গেট - Surma Times | Sylhet News

নেপালের বন্যার প্রভাব: ভারতে সতর্কতা, খোলা হলো গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬ গেট - Surma Times | Sylhet Newsনেপালের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবার উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে প্রতিবেশী ভারতেও। নেপাল থেকে প্রবাহিত নারায়ণী-গণ্ডক নদীর পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ওই নদীর পানির উচ্চতা এখন উদ্বেগজনক।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, নেপালে নদীটির নাম নারায়ণী। একই নদী নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত হয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে গণ্ডক নামে পরিচিত হয়। নারায়ণী নদীর উৎপত্তি তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে।

নদীটি মুস্তাং অঞ্চল দিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। ত্রিবেণী ধামে ভারত-নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে নদীটি বিহারের বাল্মীকিনগরে পৌঁছায়। লিভিং ওয়াটার্স মিউজিয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্মীকিনগর থেকে গণ্ডক উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার কারণে তুষারধস সৃষ্টি হয়েছে, যা পরে দেশটিতে আকস্মিক বন্যার জন্ম দেয়। নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি নেমে এসে গ্রাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে।

তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদী একটি উজানের উপনদী, যা ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। এই নদী আবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী অববাহিকায় প্রবাহিত হয়েছে। ফলে নেপালের নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়লে এর প্রভাব ভারতের দিকে প্রবাহিত গণ্ডক নদীতেও পড়বে। এতে পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও উত্তর বিহারে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।

নেপাল থেকে উত্তর প্রদেশে প্রবাহিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো ঘাগরা বা কর্ণালি, শারদা বা কালি এবং রাপ্তি।

এদিকে বিহারে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল সীমান্তবর্তী বিহারের উত্তরতম জেলা পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটের সবকটিই বুধবার খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

নেপাল সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ এবং এর সংলগ্ন কুশিনগর জেলাতেও জারি করা হয়েছে সতর্কতা। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক্সে লিখেছেন, গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর পানির স্তর বাড়ছে এবং এর প্রভাবে উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলায় বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরোপুরি সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article