
সিলেট, ২২ আগস্ট: সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে চলমান বৃক্ষমেলায় সৌখিন কৃষকদের সংগঠন ‘সিলেটের ছাদ কৃষি’ গ্রুপের উদ্যোগে সৌখিন কৃষকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বিকেল ৫টায় আয়োজিত এ মিলনমেলায় সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ছাদবাগানি ও কৃষিপ্রেমীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম। ‘সিলেটের ছাদ কৃষি’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন মো. রিয়াজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রুপের এডমিন প্যানেলের সভাপতি মো. বদরুল আলম।
মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী সৌখিন কৃষকেরা নিজেদের ছাদবাগানের বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা, কাটিং ও বীজ বিনিময়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। সিলেটের সৌখিন কৃষকদের সফলতা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
এ সময় নগরজীবনে ছাদ কৃষির গুরুত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং অব্যবহৃত ছাদকে সবুজায়নের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নগরজীবনে ছাদ কৃষি শুধু শখ পূরণের মাধ্যম নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেট নগরীর আরও বেশি ছাদকে সবুজ বাগানে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও ‘সিলেটের ছাদ কৃষি’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, ছাদ কৃষিকে জনপ্রিয় করা এবং সৌখিন কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ মিলনমেলার মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও গ্রুপের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ বিতরণ, প্রশিক্ষণ ও ছাদ কৃষি সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মো. বদরুল আলম বলেন, একটি সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি ছাদ বা আঙিনাকে সবুজ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এডমিন প্যানেলের সেক্রেটারি প্রখ্যাত বাগানি নাসরিন আক্তার, এডমিন জুহেলি আক্তার জুলি ও মডারেটর আরিফুর রহমান আরিফ তাঁদের বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মিলনমেলায় সিলেটের বিভিন্ন পেশার সৌখিন ছাদবাগানি, কৃষিপ্রেমী ও ‘সিলেটের ছাদ কৃষি’ গ্রুপের সদস্যরা অংশ নেন। প্রাণবন্ত আড্ডা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।






