সিলেট, ২০ আগস্ট: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সুপ্ত প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে সিলেটের স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। ১৯ ও ২০ আগস্ট কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক আনন্দঘন সাংস্কৃতিক উৎসবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর জয়নুল আবেদিন চৌধুরী। স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কলেজের একাডেমিক ইনচার্জ প্রভাষক কাজী শাখাওয়াত হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, সংস্কৃতি মানুষের আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান অংশ। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশের পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড়কে ধারণ করেই আধুনিক ও বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তাদের মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় লোকসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্যে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের পর লোকসংগীতের সুর, রবীন্দ্রসংগীতের আবেশ, দেশাত্মবোধক গানের উদ্দীপনা এবং নৃত্যের নান্দনিক পরিবেশনা মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাথমিক শাখার উপাধ্যক্ষ নাহিদা খান, বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা। আয়োজনের সার্বিক সমন্বয় ও দায়িত্বে ছিলেন কলেজের সিনিয়র প্রভাষক রনজিত পুরকায়স্থ, প্রভাষক (সংগীত) জুঁই তালুকদার এবং প্রভাষক উমা সরকার।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও অভিনন্দন জানানো হয়। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উৎসবের সমাপ্তি টানা হয়।
শিক্ষার্থীদের মনন ও সৃজনশীলতার এমন পরিচর্যা শুধু একটি প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তাদের আত্মবিশ্বাসী ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।





