সিলেট, ১৪ আগস্ট: গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকায় সুরমা অটো কেয়ার পাম্পের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, গ্যাস না পাওয়ায় সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। হঠাৎ করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বিক্ষোভে নামেন।
এর আগে বুধবার জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। ফলে সারাদেশের মতো জালালাবাদ গ্যাসের বিতরণ এলাকাতেও স্বল্প চাপ বিরাজ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের গ্যাস ব্যবহার ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অন্যথায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভারশন ওয়ার্কশপ অনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয়ভাবে গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগ ও জালালাবাদ গ্যাস লিমিটেডের সঙ্গে সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শুক্রবার সকালে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে।
এদিকে ফিলিং স্টেশন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বশীলরা বলছেন, সকাল ৮টার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত গ্যাসের চাপ খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
পাম্প মালিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, কোনো আগাম নোটিশ ছাড়া হঠাৎ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তাঁদের দাবি, এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। একই সঙ্গে অযথা জনদুর্ভোগ, জনরোষ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তাঁদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে অন্তত জনগণকে আগে থেকে জানানো, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত ছিল।
তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিলেট নগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন খোলা রেখেছেন মালিকরা। গ্যাসের সংকট ও সরবরাহ পরিস্থিতির মধ্যে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে সিলেট-তামাবিল সড়কে যান চলাচলে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।






