সিলেট, ১৩ আগস্ট: সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকায় বাসায় ঢুকে আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনাকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সুরাইয়া বেগমের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল। তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির মৃত নূর মিয়ার (কবিরাজ) ছেলে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির বলেন, তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত দম্পতির ছেলে দেশে আসার পর শুক্রবার মামলার এজাহার দেওয়া হতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ এবং একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ওই বাসায় রং করার কাজ করেছিলেন। সেই কাজের সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহমিনার কোনো আচরণে বাবুল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে প্রথমে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
তাহমিনাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাবুল যে বারান্দা দিয়ে পালানোর কথা বলেছেন, সেখানকার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া আলামত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য যাচাই করবে পুলিশ। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা ও পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম নিহত দম্পতির ছেলে দেশে ফেরার পর এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।






