মৌলভীবাজার, ৬ আগস্ট: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে গ্রেপ্তার হন মোঃ আব্দুর রউফ (৫৪) ও মোঃ জসিম উদ্দিন (৪২)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, র্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানাধীন চুনঘর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার সময় গোপন সংবাদ পায় যে, একই থানার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণবাজার এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য ক্রয়বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে।
এই সংবাদ পেয়ে র্যাবের আভিযানিক দলটি রাত আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন স্বীকার করেন, তাদের হেফাজতে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে।
পরে তাদের হেফাজতে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে পাওয়া যায় ২০টি কালো রঙের বায়ুরোধক পলিথিনের জিপার, যার ভেতরে ছিল মোট ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার দেখায় র্যাব। গ্রেপ্তার দুজনের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার বটলী গ্রামে। আব্দুর রউফের বাবার নাম মৃত আঃ মোতালেব এবং জসিম উদ্দিনের বাবার নাম নূর উদ্দিন।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তারা পরস্পর যোগসাজশে মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর তাদের এবং জব্দ করা আলামত মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের শুরু থেকেই মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধী গ্রেপ্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে সংস্থাটি। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের এই ধারাবাহিক প্রবণতা মৌলভীবাজার অঞ্চলে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা গেলে সীমান্তবর্তী পথ দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






