ঢাকা, শুক্রবার: দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় পদত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বঙ্গভবন থেকে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরকৃত পদত্যাগপত্র নিয়ে তিনি শুক্রবার বিকাল ৫টা ০১ মিনিটে জাতীয় সংসদে পৌঁছান। পরে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি ব্রিফিং করার কথা রয়েছে তার।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তাকে অপসারণের দাবিও জোরালো হয়। তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। পরে প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের আলোচনা নতুন করে শুরু হলেও বিএনপি দেখে-শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটে। দেড় বছর মেয়াদ থাকায় এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো ছিল না বলেও জানা যায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। গত মে মাসে লন্ডন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে তথ্য সামনে আসে। গত ৯ থেকে ১৮ মে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফর করেন। এ সময় দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয় বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। এ যোগাযোগকে কেন্দ্র করে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে সমালোচনা ও প্রশ্ন ওঠে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের ইচ্ছার বিষয়টিও তাকে জানানো হয়। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।





