নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো লা রোজা।
নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ পজিশন এবং ৩১৩টি সফল পাসে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। বিপরীতে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে একটিও শট নিতে পারেনি, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল ঘটনা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই ইয়ামালের প্রচেষ্টা থেকে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের যৌথ প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ইনজুরিতে পড়লে তাকে বদলি করে মাঠে নামেন ওতামেন্দি। বিরতির আগে স্পেন একাধিক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি। আর্জেন্টিনা আক্রমণে ছন্দহীন থাকলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে বিরতিতে সমতা ধরে রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র অপরিবর্তিত থাকে। স্পেন ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে, তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ৭০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কোনো শট নিতে না পারায় তাদের আক্রমণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৯০+৩ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরলাইন ০-০ থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় স্পেনের জয়সূচক গোলটি আসে। ডান দিক থেকে পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামস বল বাড়ান তোরেসের দিকে, আর তোরেস শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে একাধিক আক্রমণ তৈরি হলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক সিমনের দৃঢ়তায় তারা সফল হতে পারেনি। ১২০+১ মিনিটে সিমিওনের শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়, যা ছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা সুযোগ। শেষ মুহূর্তে তাগলিয়াফিকোর অপ্রয়োজনীয় ফাউল আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দেয়।
ম্যাচজুড়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল, ধারাবাহিক আক্রমণ এবং সঠিক সময়ে গোল তাদের শিরোপা এনে দেয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। এই ফাইনাল বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরেকটি নাটকীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।






