কারাকাস, ১৭ জুলাই: গত মাসে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ এই তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক পোস্টে হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০৬টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এসব শিবিরে বর্তমানে ২১ হাজার ২৩৫ জন অবস্থান করছেন। তবে এখনো ১৭ হাজার ৯০৭ জন স্থায়ী আবাসনের বাইরে রয়েছেন, যা পুনর্বাসন কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মোট ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এর ফলে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং জরুরি আশ্রয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন।
গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি, আহতের ঘটনা এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
ভেনেজুয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ, গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভেনেজুয়েলা। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকায় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার।





