হবিগঞ্জ, ১৪ জুলাই: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা এক প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের দাবি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই নারী সম্প্রতি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট নারী ও তার পরিবার এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সময়ে তার স্ত্রী খাদিজা (৩০) দুই সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই রাতে খাদিজার প্রসববেদনা শুরু হলে তার জা আক্তার বানু এবং প্রতিবেশী রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহার সেখানে যান। তাদের দাবি, ওই রাতে খাদিজা একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পরে রাতেই নবজাতককে নিয়ে তিনি লাখাই উপজেলার নকলাউক গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে যান।
আক্তার বানু দাবি করেন, ঘরে প্রবেশ করার পর তিনি নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান এবং একটি ছেলে সন্তান দেখেছেন। একই ধরনের দাবি করেছেন প্রতিবেশী রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহার। ফাইজুন্নাহার বলেন, তিনি নবজাতককে কোলেও নিয়েছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খাদিজা। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো সন্তানের জন্ম দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি তার শরীর থেকে একটি রক্তের পিণ্ড বের হয়েছে, যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
খাদিজার বাবা ফজলুর রহমানও মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সন্তান প্রসবের যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে এখনো সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেননি। ফলে এ মুহূর্তে তিনি কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি নন।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চললেও অভিযোগ ও পাল্টা দাবির কারণে ঘটনাটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।





